প্রস্থানে – কবিতা
🌿 প্রস্থানে | কবিতা
📝 তারিকুজ্জামান তনয়
অথবা আমি যেদিন আর থাকব না-
আযানের প্রিয় সুর ওই মসজিদ থেকে ধ্বনিত হবে,
কিন্তু আমি আর তা শুনতে পাবো না।
‘ঘুমের চেয়ে নামায উত্তম, ডাকেন মমতায়,
বিছানা হারাম হয়ে যায় মোয়াজ্জিনের বার্তায়।’
তখনও নিথর দেহে খাঁটের পরে শুয়ে,
মধুর ধ্বনি আর কানে বাজে না।
অথবা আমি যেদিন আর থাকব না-
বাবা, মোরে ডাকলে আর শুনব না—এ অভদ্রতা,
তাই বাবা নেই আজ, নেই কোনো দৈন্যতা!
আমার ছোট বেলায় বাবা ছিলেন তরুণ,
মোরে ঘাড়ের পরে নিয়ে কতই না করতেন আমোদ।
গম্ভীর হতে দেখলেই গাল দিতেন মলে;
আজ অসাড় দেহখানি মোর খাঁটের পরে নির্জীব,
কী করে বাবা সইতেন দু’নয়নে দেখে।
অথবা আমি যেদিন আর থাকব না-
চির দুঃখী মা আমার; তাই তো—
বেঁচে আছেন দেখতে ছেলের দৈন্যতা।
অধিকারের বলে গোসসা করে সারাদিন খাইনি,
পাগলি মা আমার- অনাহারী থেকে প্রতিশোধ নিলেন, অবাক এ ভক্তি।
অঝোড়ে বিলাপে কাঁদিস না রে শীতল আঁচল তুলে,
কানে বাজলে কান্নার সুর আমি সইতে পারবো নারে।
অথবা আমি যেদিন আর থাকব না-
লাল টুকটুক সোনার মতন মুখ, ছোট্ট শাড়ির ভাঁজে–
‘প্রথম দেখাতেই পাগল করেছিলে’— তুমিও তাই বলে ছিলে।
বাইশ বছরের সংসারে ঝগড়া বেঁধেছে কত,
ততোধিক ভালোবেসেছো, নিবিড় যত্ন কতশত।
যুদ্ধসম সাহস দিতে সঙ্গী ছিলে মোর প্রাণের; আজ—
খাঁটের পাশে কাঁদ কেন, যাত্রা জানাও বিদায়ের!
অথবা আমি যেদিন আর থাকব না-
গুল্মবৃক্ষের আমি ছিলাম খুঁটি, অবলম্বন, শক্তি;
বিদায় জানাতে কষ্ট হচ্ছে-রে সোনা এই তো নিয়তি।
দুঃখীর দুঃখ, শনির অনিষ্ট, অন্তঃরমের দহন,
আগলে রেখেছি মোর সর্বস্ব দিয়ে, চোখে নিয়ে স্বপন।
তাজা প্রাণ বলি দেওয়ার মত ছটফট করো না-রে, সোনা,
দায়িত্ব, অধিকার শেষ—আজ কানে যাবে না শোনা।
অথবা আমি যে দিন আর থাকব না-
ক্ষমা করিস রে তোরা মোর জীবনের অর্ধেক,
বন্ধু বর্গ, আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী আরও শতেক।
কখনও দায়িত্বের বলে, কখনও হেলার ছলে,
মধুর অমধুর যা হোক অনিষ্ট রেখে ক্ষমা করে দিলে।
কোনো কথা না বলে থাকব খাটে শুয়ে,
তার পাশে সওয়াল জপে স্মৃতিতে বুক ভাসাবে।
নেপথ্যঃ
বুড়ো বয়সের মৃত্যু ভাবনা নিয়ে লেখা আমার এই-‘প্রস্থানে’ কবিতাটি। ভোরে ফজর নামাজ পড়ে সূর্য ওঠার দৃশ্য দেখতেছেন। এমন সময় মৃত্যুর বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে তাঁর মনে জাগে। এইসব নিয়ে লেখা কবিতাটি। ধর্ম, বাবা, মা, বউ, সন্তান এমনকি বন্ধু, আত্মীয় ও প্রতিবেশীর অবস্থান লিখনিতে ওঠে এসেছে।
২৪ অক্টোবর ২০১৮, ময়মনসিংহ (বাসায়, সকাল-৯টা)
আজ অসাড় দেহখানি মোর খাঁটের পরে নির্জীব,
কী করে বাবা সইতেন দু’নয়নে দেখে।
অঝোড়ে বিলাপে কাঁদিস না রে শীতল আঁচল তুলে,
কানে বাজলে কান্নার সুর আমি সইতে পারবো নারে।
আরও পড়ুন — Bonopushpa.com
নিভে যায় নি আলো — পড়ি
স্ত্রীর কৃপণ হাসি — পড়ি
কালো মেঘ কথা রেখেছে — পড়ি
ফুল ফুটেছে ঐ — পড়ি
মৌমাছি — পড়ি
না বলা দুঃখ — পড়ি
গোলাপ ফুলের কথা — পড়ি
দৌবযোগ — পড়ি
অমলের স্বপ্ন — পড়ি
গোলাপের হাসি ফুটেছে — পড়ি
বুনোপুষ্প – সাহিত্য সুখী করে

ওয়েবসাইট:
www.bonopushpa.com