সূচনা — প্রবন্ধ

তারিকুজ্জামান তনয়

মানুষ মাঝে মধ্যেই বলে, এর চেয়ে মৃত্যুই ভালো। আর যদি সত্যিই কখনো তা ঘটে যায়, তবে কেমন হতো? তার সংস্পর্শে থাকা মানুষগুলোর হিসেবটা না হয় বাদ দেওয়া গেল। তার মৃত্যুতে সে কী বেঁচে গেল?

অন্য ধর্মের মানুষগুলো মৃতব্যক্তিটির জন্য আশীর্বাদ করে বলে থাকেন, Rest in Peace (RIP). সত্যিই কথাটা কতটা শান্তির। কিন্তু না! তা অবশ্যই নয়। যে জীবন অভিশপ্ত কিংবা পাপাচারিতে ভরা, তার কখনোই Rest in Peace (RIP) হতেই পারে না। তবে হ্যাঁ। যারা সত্যিই পুণ্যবান, কখনো কখনো তারাও তো বলে ফেলেন, বরং মৃত্যুই ভালো। আর তার জন্য এ কথটি স্পষ্টভাবে অন্যায়।

যে ইচ্ছেটি ফলার ক্ষমতা তোমার হাতে নেই, তার অন্যথা ভাবাটা বরং অন্যায়। অধিক পাপের। যেমন তোমার জন্ম। যেমন তোমার রিজিক। যেমন তোমার মৃত্যু।

আমরা সময়কে বলেছি কখনো, তুমি কিছু সময়ের জন্য থেকে যাও। বৃষ্টিকে বলেছি কী, তুমি এখন ঝরবে না। আমি ফুলের এই সুন্দর মুখটাকে কখনো বলেছি কী, তুমি মিষ্টি হয়ও না? কেন বলিনি, কারণ সেটা আমার সীমাবদ্ধ জ্ঞানের বাইরের বিষয়। কল্পনাতীত। অথচ, মৃত্যুকে কত সহজেই বলে দিই, তুমি নিয়ে যাও মোরে। 

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর লেখা একটি বিখ্যাত লাইন–

“বিপদে মোরে রক্ষা করো // এ নহে মোর প্রার্থনা // বিপদে আমি না জানি করি ভয়।”

তবে কী জীবন জীবনকেই কলঙ্কিত করছে? তবে কী জীবন প্রতিজ্ঞার বিষয়? 

এখানেই শত প্রশ্ন জন্ম হয়। আর আমরা তার উত্তর চোখের পলকের মতো ক্ষণিকেই হেলায় স্রোতে ডুবিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে চাই। তখন, বিফল হয়ে ফিরে আসে ঠিক কতগুলো অভিশাপ নিয়ে। আর তারা ব্যথাতুর হৃদয়ে নিজেকে খোঁজে পায় আগুনে পুড়া ছাইয়ের রাজ্যে। অথচ আরেকজনের জীবন বসন্তের প্রেমে পূর্ণ। 

 তুমি, সংকুচিত হৃদয়ে ডাক যদি– প্রভু // প্রভু বলবেন- ভেংচি দিয়েছ কেন ওরে? // কী বলবে তখন, বাঁচাও, হে প্রভু বাঁচাও মোরে // প্রভু বলেন হেসে- তোমারেই কী তুমি বাঁচাতে চাও? // হে মূর্খবেশী কাপুরুষ তুমি, বললে-জ্বি, জ্বি প্রভু // বলেন প্রভু– দিলাম আরও দু’চারখানা বিপদ ওই সাহসীর কাছ থেকে ছেড়ে // 

কে যেনো তখন কানে এসে বলল, বিধাতা মহান অতি, রাখেন নি ক্রোধ এতটুকু। একবার ভেঙেছে কপাল। আরবার রতি-রত্ন পায়ে দলবে ক্ষণ // প্রভু বলেন, আচ্ছ তবে, পরীক্ষা তো চাই // 

তুমি সুস্থ হতে করলে খাওয়া-দাওয়া, ঘুম-জিরাত, আরও শতেক সদাই // প্রভু আবার বলেন, আচ্ছা-আচ্ছা! তবে পরীক্ষা হওয়া চাই // 

এবারও তার দু’পা  কাপে উঠল। সে ভীরুবেশে বলে, প্রভু-প্রভু, গুরু-গুরু // সাড়া দিলেন প্রভু, কী প্রার্থনা করব কবুল?// আবার সুযোগ চাহি, ফাস্টর হবো তখন, এই জানাই মিনতি // প্রভু খুশি হয়ে বললেন, আচ্ছা, তাই হোক। তবে, যেহেতু এসেছো ঘরে, আর কিছু বিপদসন্দেশ লয়ে যাও তুলে //

২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ / রাত–১:৩০টা

✍আরও কিছু প্রবন্ধ পড়ি… লিংক

 

🍁
🌺 আরও পড়ি– ছোটগল্প

🌺 আরও পড়ি– উপন্যাস

🌺 আরও পড়ি– কবিতা

🌺 আরও পড়ি– আর্ট

🍁

 

 

📌 সাহিত্য সুখী করে…

 

0 0 votes
Article Rating

Leave a Reply

0 Comments
Oldest
Newest Most Voted