যেটুকু মিথ্যে | প্রবন্ধ
যেটুকু মিথ্যে
তারিকুজ্জামান তনয়
আমি অত্যন্ত বিরক্তির সাথে বলছি- দুজন ব্যক্তির একজন শুধু ‘হা’ করে থাকেন, আরেকজন মুখ বন্ধ করে। বিষয়টা এমন নয়। আসলে বিষয়টা হলো, প্রথম ব্যক্তি প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে অতিরিক্ত কথা বলেন। আরেকজন পরিমিত পরিমাণে। আমরা সাধুভাবে বলতে পারি, দ্বিতীয় ব্যক্তিটিই সঠিক। প্রশ্ন হলো, সেই দ্বিতীয় ব্যক্তিটি কী আমাদের বাঙালিদের সাথে একসাথে চলতে পারবে? পরক্ষণেই এক বাক্যে সবাই গলা মিলিয়ে আওয়াজ তুলবে, সে হিংসুটে। সমাজের অচল পয়সা।
কী বলতে চাও, তা কি তুমি জানো? আচ্ছা, মিথ্যে কাকে বলে?- যা সত্য নয় তা প্রতিষ্ঠিত করাটাই মিথ্যে? আচ্ছা, যা সত্য-মিথ্যা কোনটি হবে তা জানা নেই, সেটা প্রতিষ্ঠিত করাকে কী বলে? -মিথ্যে নয় তো?
হ্যাঁ এ কথা সত্য- “সব সত্য-মিথ্যে জেনে সামনের দিকে এগানো যায় না? সম্ভবত এ প্রশ্নটাই ভুল।
জীবনের সমাপ্তি ঘটে গেলেও জীবনের প্রাপ্তি বেঁচে থাকে। হাজার কোটি সম্পত্তির মালিক হলেও জীবনের শেষ বিন্দুতে এসে শুনতে ইচ্ছে করে- ব্যক্তিটি ভালো ছিল। একইভাবে নিঃস্ব লোকটির সারা জীবনের চাওয়া থাকে, জীবনের শেষ নিঃশ্বাসের সময় যেন লোকে বলে, সে ভালো ছিল। আমাদের মধ্যে যারা অপকর্ম করে বেড়ায় তারাও সেই অপকর্মকে অপছন্দ করে। তারাও ভাবে- তবুও মানুষ তাকে ভালো বলুক। গালি খেতে কে চায়– বলো? সম্ভবত কেউ না।
আমরা পরস্পরের সাথে কথা বলি, পরস্পরকে নিয়ে ভাবি- আরও কত কী? বিশেষ করে আমরা যারা বাঙালি, তারা সত্যিই কী উৎকর্ষ সাধনের বিষয়ে কথা বলে থাকি? -মনে হয় না। বরং সৎ পরামর্শ দিতে গিয়েও গীবত করে আসি। বিষয়টা এমন যে, আমাদেরকে দশটা কথা বলতেই হবে। অথচ ছয়টি কথাতেই কাজ হয়ে যেত। আফসোস, আমরা ফুল দেখতে গিয়ে যদি শুধু ফুুলের প্রশংসা করতে পারতাম!
“মরমিয়া তুমি, কত ক্রন্দন দিয়েছো পলেপলে,
কোথা সুখ, কোথা দুঃখ- খুঁজে না পাই–
তাই জ্বলি- কারণ, অকারণে।”
প্রবন্ধ: যে টুকু মিথ্যে
তারিকুজ্জামান তনয়
০৯ এপ্রিল ২০২৬, ঢাকা।
✍আরও কিছু প্রবন্ধ পড়ি… লিংক
“জীবনের সমাপ্তি ঘটে গেলেও জীবনের প্রাপ্তি বেঁচে থাকে।”
“গালি খেতে কে চায়– বলো? সম্ভবত কেউ না।”
আরও পড়ি– ছোটগল্প
আরও পড়ি– উপন্যাস
আরও পড়ি– কবিতা
আরও পড়ি– আর্ট
-
Facebook |
f : facebook.com/bonopushpa
- Instragram |
: www.instagram.com/tariquzzamantonoy/
-
YouTube |
: @tariquzzamantonoy3123
Twitter |
T : @bonopushpa
Website |
www.bonopushpa.com
লেখা অনেক সাবলীল হয়েছে।